কর্মজীবী পুরুষের তুলনায় কর্মজীবী নারী কাজ করেন তিন গুণ
‘ভোর হল দোর খোল…খুকুমণি ওঠ রে…।’ খুকুমণিদের যেমন ঘুম থেকে ডাকতে হয়, তেমনি ডাকার জন্য আরো আগে খুকুমণির মাকে ঘুম থেকে উঠতে হয়। অন্ধকার থাকতেই মাকে বিছানা ছাড়তে হয়। তারপর রান্নাঘর। সন্তানদের পছন্দমতো নাশতা তৈরি। তাদের সারা দিনের খাবার গুছিয়ে রাখা। স্কুলে দিয়ে আসা। আবার নিজের কর্মস্থলের জন্য তৈরি হওয়া। সারা দিন কর্মক্ষেত্রে নানা ব্যস্ততা। মিটিং। এরই মধ্যে খবর নিতে হয় সন্তানদের। বাসার। রাতে বাসায় ফিরে আবার সন্তানদের পছন্দের খাবার তৈরি করা। তাদের পড়তে বসানো।
সন্তান-সংসারের সব দায়িত্ব পালন করে একজন কর্মজীবী মা হাঁপিয়ে ওঠেন নিত্য। সংসারের অন্য সদস্যরা যদি কিছুটা ঘরের কাজ-রান্নাঘরের কাজ গুছিয়ে দিত তাঁকে, তাহলে কর্মজীবী নারীর এত হাঁপিয়ে উঠতে হতো না প্রতিদিন।
দিনবদলের পালে হাওয়া লেগেছে। কেউ কেউ হয়তো বদলেছেন। ইতিবাচকভাবে দেখছেন সব কিছু। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের দেশের মানুষ ঘরের কাজ-রান্নাঘরের কাজ বলতেই নারীর কাজ বোঝান। প্রচলিত এই ধারণা যে সত্য, সেটি উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপেও। জরিপ অনুযায়ী কর্মজীবী পুরুষের তুলনায় কর্মজীবী নারী কাজ করেন তিন গুণ। তবে কর্মজীবী নারীর গৃহস্থালি কর্মকাণ্ডের আর্থিক মূল্যায়ন করা হয় না, এর গুরুত্ব দৃশ্যমান হয় না। সম্প্রতি বিবিএস পরিচালিত শ্রমশক্তি জরিপে কর্মজীবী নারীর ঘরের কাজকে ‘ডাবল বারডেন’ (বোঝা) বলা হয়েছে।
ঘরের কাজ কে কতটুকু করে? জরিপ অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী উভয়ই কর্মজীবী-এমন পারিবারিক পরিবেশে ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই রান্নার কাজটি করতে হয় ওই নারীকেই। আর কর্মজীবী পুরুষের রান্না করতে হয় মাত্র আড়াই শতাংশ ক্ষেত্রে। কর্মজীবী ১০০ নারীর মধ্যে ৮৯ জনই কাপড় ধোয়ার কাজ নিজেই করেন। আর ১০০ কর্মজীবী পুরুষের ক্ষেত্রে এই কাজ করেন মাত্র ১২ জন। অন্য পুরুষদের কাপড় ধোয়ার এই কাজ করেন গৃহকর্মী (বেশির ভাগ নারী), পরিবারের অন্য নারী সদস্য অথবা লন্ড্রিতে করানো হয়। কর্মজীবী নারীদের ৮৮ শতাংশ ঘর পরিষ্কারসহ বাসার বিভিন্ন জিনিস সাফসুতরো রাখার কাজ করে থাকেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৭ শতাংশ।
ঘরের কেনাকাটার (শপিং) ক্ষেত্রে অবশ্য কর্মজীবী পুরুষের অংশগ্রহণ বেশি। কর্মজীবী পুরুষদের ৭৭ শতাংশই ঘরের কেনাকাটার কাজটি করে থাকেন। অন্যদিকে ২৬ শতাংশ কর্মজীবী নারী চাকরির পাশাপাশি সংসারের জন্য কেনাকাটার কাজটিও নিয়মিত করে থাকেন। পরিবারের শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ সদস্যদের দেখভালের দায়িত্বও বেশির ভাগ কর্মজীবী নারীকে সামলাতে হয়। ৫৩ শতাংশ কর্মজীবী নারী নিয়মিত এ কাজ করেন। বিপরীতে পরিবারের এসব সদস্যের যত্ন নেওয়ার কাজটি করে থাকেন ২১ শতাংশ কর্মজীবী পুরুষ। এসব নির্দিষ্ট কাজের বাইরেও সংসারের টুকিটাকি অন্য কাজে কর্মজীবী নারীর অংশগ্রহণ (৫০ শতাংশ) কর্মজীবী পুরুষের তুলনায় বেশি। এই জরিপ অনুযায়ী কর্মজীবী নারীরা পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না।
যিনি কর্মজীবী নারী, পরিবারের সদস্যদের তাঁকেই বোঝাতে হবে, কিভাবে সবাই মিলে ঘরের কাজটি গুছিয়ে ফেলা যায়। পরিবারের সবাইকে ঘরের কাজ, নিজেদের জিনিস গুছিয়ে রাখার কাজটুকু এবং পারিবারিকভাবে মিলেমিশে কাজ করার বিষয়টি চর্চা করতে হবে। তাহলে একজনের ওপর এত চাপ পড়বে না।
নারী তো ঘরে-বাইরে শ্রম দিয়েই যায়। এবার আসি কর্মজীবী নারী কিভাবে নিজেকে একটু সময় দিতে পারবেন তার দিকে।
সন্তান-সংসারের সব দায়িত্ব পালন করে একজন কর্মজীবী মা হাঁপিয়ে ওঠেন নিত্য। সংসারের অন্য সদস্যরা যদি কিছুটা ঘরের কাজ-রান্নাঘরের কাজ গুছিয়ে দিত তাঁকে, তাহলে কর্মজীবী নারীর এত হাঁপিয়ে উঠতে হতো না প্রতিদিন।
দিনবদলের পালে হাওয়া লেগেছে। কেউ কেউ হয়তো বদলেছেন। ইতিবাচকভাবে দেখছেন সব কিছু। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের দেশের মানুষ ঘরের কাজ-রান্নাঘরের কাজ বলতেই নারীর কাজ বোঝান। প্রচলিত এই ধারণা যে সত্য, সেটি উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপেও। জরিপ অনুযায়ী কর্মজীবী পুরুষের তুলনায় কর্মজীবী নারী কাজ করেন তিন গুণ। তবে কর্মজীবী নারীর গৃহস্থালি কর্মকাণ্ডের আর্থিক মূল্যায়ন করা হয় না, এর গুরুত্ব দৃশ্যমান হয় না। সম্প্রতি বিবিএস পরিচালিত শ্রমশক্তি জরিপে কর্মজীবী নারীর ঘরের কাজকে ‘ডাবল বারডেন’ (বোঝা) বলা হয়েছে।
ঘরের কাজ কে কতটুকু করে? জরিপ অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী উভয়ই কর্মজীবী-এমন পারিবারিক পরিবেশে ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই রান্নার কাজটি করতে হয় ওই নারীকেই। আর কর্মজীবী পুরুষের রান্না করতে হয় মাত্র আড়াই শতাংশ ক্ষেত্রে। কর্মজীবী ১০০ নারীর মধ্যে ৮৯ জনই কাপড় ধোয়ার কাজ নিজেই করেন। আর ১০০ কর্মজীবী পুরুষের ক্ষেত্রে এই কাজ করেন মাত্র ১২ জন। অন্য পুরুষদের কাপড় ধোয়ার এই কাজ করেন গৃহকর্মী (বেশির ভাগ নারী), পরিবারের অন্য নারী সদস্য অথবা লন্ড্রিতে করানো হয়। কর্মজীবী নারীদের ৮৮ শতাংশ ঘর পরিষ্কারসহ বাসার বিভিন্ন জিনিস সাফসুতরো রাখার কাজ করে থাকেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৭ শতাংশ।
ঘরের কেনাকাটার (শপিং) ক্ষেত্রে অবশ্য কর্মজীবী পুরুষের অংশগ্রহণ বেশি। কর্মজীবী পুরুষদের ৭৭ শতাংশই ঘরের কেনাকাটার কাজটি করে থাকেন। অন্যদিকে ২৬ শতাংশ কর্মজীবী নারী চাকরির পাশাপাশি সংসারের জন্য কেনাকাটার কাজটিও নিয়মিত করে থাকেন। পরিবারের শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ সদস্যদের দেখভালের দায়িত্বও বেশির ভাগ কর্মজীবী নারীকে সামলাতে হয়। ৫৩ শতাংশ কর্মজীবী নারী নিয়মিত এ কাজ করেন। বিপরীতে পরিবারের এসব সদস্যের যত্ন নেওয়ার কাজটি করে থাকেন ২১ শতাংশ কর্মজীবী পুরুষ। এসব নির্দিষ্ট কাজের বাইরেও সংসারের টুকিটাকি অন্য কাজে কর্মজীবী নারীর অংশগ্রহণ (৫০ শতাংশ) কর্মজীবী পুরুষের তুলনায় বেশি। এই জরিপ অনুযায়ী কর্মজীবী নারীরা পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না।
যিনি কর্মজীবী নারী, পরিবারের সদস্যদের তাঁকেই বোঝাতে হবে, কিভাবে সবাই মিলে ঘরের কাজটি গুছিয়ে ফেলা যায়। পরিবারের সবাইকে ঘরের কাজ, নিজেদের জিনিস গুছিয়ে রাখার কাজটুকু এবং পারিবারিকভাবে মিলেমিশে কাজ করার বিষয়টি চর্চা করতে হবে। তাহলে একজনের ওপর এত চাপ পড়বে না।
নারী তো ঘরে-বাইরে শ্রম দিয়েই যায়। এবার আসি কর্মজীবী নারী কিভাবে নিজেকে একটু সময় দিতে পারবেন তার দিকে।
কাজ অনুযায়ী প্রায়োরিটি লিস্ট তৈরি করুন। একটা ডায়েরি মেইনটেন করুন অফিসে। প্রতিদিনের কাজ, অ্যাসাইনমেন্ট বা বিশেষ অ্যাপয়েন্টমেন্ট তাতে টুকে রাখুন। বাড়িতেও নোটবুক মেইনটেন করুন। কাজগুলো দৈনিক, সাপ্তাহিক আর মাসিক হিসেবে ভাগ করে নিন। অবশ্যই কাজের মধ্যে কিছুটা অবসর যেন থাকে। দিনের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে ফেলুন। কারণ বিকেলের দিকে এনার্জি লেভেল কম থাকে। আনন্দ নিয়ে কাজ করুন। কাজকে বোঝা ভাববেন না
সন্তানদের পোশাক, টিফিন আর রান্নার মেন্যুটা আগের দিনই ঠিক করে রাখুন। ছুটির দিন এক সপ্তাহের বাজার একসঙ্গে করুন। আজকাল বাজারে নানা রকম কিচেন গেজেট পাওয়া যায়। এসব ব্যবহারে সময় বাঁচবে। পড়ার টেবিল, বিছানা ও ঘর গোছানোর মতো ছোট কাজগুলো সন্তানকেই শিখিয়ে দিন। সকালের নাশতা কিংবা রাতের খাবারটা পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে করুন। এতে পারিবারিক বন্ধন অটুট থাকবে।
কর্মজীবী নারীর প্রতিদিন রান্নাঘরে যাওয়া একটা নিত্য হ্যাপা। তাই গুছিয়ে রাখতে পারেন কিছু খাবারদাবার। রান্না করে ফ্রিজে রেখে দিলে প্রতিদিনের রান্নার ঝামেলাটা থাকে না। কিছু খাবার হাফ ডান-মানে অর্ধেক তৈরি করে রাখতে পারেন। যেমন শাকসবজি প্রতিদিন কাটা-বাছার ঝামেলা এড়াতে একদিন বেশি করে কেটে অর্ধেক সিদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। খাবার আগে শুধু ভেজে নিলেই হলো। ঠিক তেমনি কাবাব-সসেস-পুরি-সমুচা ধরনের জিনিসগুলো বেশি করে বানিয়ে ফ্রিজে রাখতে পারেন। বিকেলের নাশতায় খুব সহজেই পরিবেশন করতে পারবেন।
ঘরের কাজ নারী-পুরুষ সবাইকে মিলেমিশে করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে
ঘরের কাজ করে নারী কোনো বেতন বা পারিশ্রমিক পান না। অর্থনীতির ভাষায় এটাকে ‘আনপেইড ফ্যামিলি ওয়ার্ক’ বলে। আর এই কাজগুলো নারীরাই বেশি করেন। শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে; কিন্তু ঘরের কাজ বাদ দিয়ে নয়। অর্থাৎ একই সঙ্গে তাঁরা ঘরের কাজও করছেন। ফলে তাঁরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা অবসর পাচ্ছেন না। এতে কর্মজীবী নারীদের মানসিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা থাকছে। নারীরা বাইরেও কাজ করছেন আবার সংসারের কাজও করছেন। অনেক পরিবার আছে, নারীকে শর্তই দেয় যে ঘরের কাজ সামলে যদি চাকরি করতে পারো তাহলে কোরো। যিনি বেশি বেতনে চাকরি করেন, তিনি হয়তো ঘরের কাজে সহায়তা করার জন্য লোক রাখতে পারেন। কিন্তু কম পারিশ্রমিক পাওয়া চাকরিজীবী নারীদের সমস্যা হয় বেশি। তারা ঘরে-বাইরে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। নারীর শ্রমবাজারে আসা মানেই ঘর ঠিক রেখে আসা, এটা যেন না হয়। ঘরের কাজ নারী-পুরুষ সবাইকে মিলেমিশে করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
কর্মজীবী নারীদের সুস্বাস্থ্যে ১১ পরামর্শঃ
পুরুষের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীরাও এগিয়ে চলছেন সমান তালে। আবার পুরুষের মতো কাজ শেষে ঘরে এসে ল্যাপটপে বা টিভি রিমোট নিয়ে বসে পড়ার ফুরসত নেই তাদের। সকাল সন্ধ্যা কাজ করে আবার ঘরে এসে করছেন ঘরকন্না। হেঁশেলও ঠেলছেন। বাচ্চা সামলাচ্ছেন। এত কাজের চাপে কর্মজীবী নারীর নিজেকে সুস্থ রাখা একটি চ্যালেঞ্জই বটে।
সামাজিক রীতি তো রাতারাতি বদলাবে না। তবু সুস্থ থাকতে হবে এর ভেতরই।
কিছু অভ্যাস করে নিলে অনেক ব্যস্ততার ভেতরও ভালো থাকা যায়। সেগুলো নিয়েই আলাপ করা যাক।
১. ঘুম থেকে উঠুন সকালে: ঘুম থেকে উঠেই যেন হাঁচর পাঁচর করে দৌঁড়ুতে না হয়। এটি মানসিক চাপ তৈরি করে। একটু আগে ভাগে বিছানা ছাড়ুন। দরকারি সাংসারিক কাজগুলো সেরে নিন।
২. নিয়মিত ব্যায়াম করুন: হালকা ব্যায়াম করুন। মুক্ত হাতে ব্যায়াম করুন। অফিসে যাওয়ার আগে ২০ মিনিট এরোবিক্স করতে পারেন। এতে চাঙা থাকবে শরীর- মন। অফিস থেকে ফিরে এসেও ২০ মিনিট ব্যায়াম করুন।
৩. কাজের ফাঁকে একটু হাঁটাহাঁটি: একটানা বসে কাজ করবেন না। কাজের ফাঁকে একটু হাঁটাহাঁটি করুন, দাঁড়ান। অল্প স্বল্প গল্প করে নিতে পারেন সহকর্মীদের সঙ্গে।
৪. সঙ্গে খাবার রাখুন: দীর্ঘসময় খালি পেটে থাকবেন না। সঙ্গে করে খাবার নিয়ে যাবেন। সাদা রুটি, বিস্কুট, সবজি, ফল জাতীয় খাবারই এ ক্ষেত্রে ভালো। এতে শরীর ভারী হবে না।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: কর্মজীবী নারীরা অনেক সময় কাজের চাপে পানি খেতে ভুলে যান। পর্যাপ্ত পানি না পান করলে পানিশূন্যতা হতে পারে। প্রস্রাবে ইনফেকশনের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পানির আয়োজন রাখবেন। প্রয়োজনে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন।
৬. নিয়মিত বিনোদন: সপ্তাহান্তে ছুটির দিনটি কাজে লাগান। মনের পরিচর্যা করুন। পরিবার নিয়ে ঘুরতে যান নতুন কোনো জায়গায়। সিনেমা দেখুন। মঞ্চ নাটক, গানের অনুষ্ঠানে যান। প্রিয় কারো আড্ডার জায়গায় যেতে পারেন। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করুন। নতুন করে কাজের শক্তি পাবেন। বড় ছুটি পেলে ভ্রমণে বেড়িয়ে পড়ুন। আজকাল প্যাকেজ ট্যুরের সুবিধা আছে।
৭. শখের চর্চা করুন: কাজটাকেই জীবনের সব কিছু বলে ধরে নেবেন না। শখের চর্চা করুন। কেউ কেউ হয়ত ছাত্রজীবনে গান করতেন। চর্চাটা আবার শুরু করতে পারেন। গীটার বাজানো, পেইন্টিং, ফটোগ্রাফি, বাগান করা, লেখালেখির চর্চা- যার যেখানে শখ এবং দক্ষতা রয়েছে সেটি করতে পারেন। এই শখের চর্চাটাই আপনাকে বিষণ্ণতা ও ক্লান্তি থেকে দূরে রাখতে পারে।
৮. নিয়মিত ডাক্তার দেখান: কর্মজীবী নারীরা ছোটখাটো শারীরিক সমস্যাকে উপেক্ষা করেন। ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে ডাক্তার বাড়িতে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন। এই ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যাই পরে বড় আকার নিতে পারে। তাই অবহেলা নয়। নিয়মিত ডাক্তার দেখান ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন। বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের স্ক্রিনিং টেস্ট করুন। খুব বেশি ক্লান্তি, হতাশা, কাজের প্রতি অসন্তুষ্টি মনে হলে মনোবিদের পরামর্শ নেবেন।
৯. সহকর্মীদের সঙ্গে সদ্ভাব রাখুন: সহকর্মীদের সঙ্গে পরচর্চা,পরনিন্দায় অংশ নেবেন না। সম্ভব হলে নিরুৎহিত করবেন। খুব বেশি হতাশার চর্চা করবেন না। নিজের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা একান্ত বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করুন নয়তো মনোবিদের সঙ্গে বসুন। নেতিবাচকতার চর্চা করবেন না।
১০. সুষম খাবারে জোর দিন: অতিরিক্ত ক্যালরি পরিহার করুন। আবার কম খাবেন এমনও নয়। খাবারে বৈচিত্র্য আনুন। ফল ও সবজি যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস আপনাকে অনেকটাই ভালো রাখবে।
১১. ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তুলুন: চাকরিজীবী মায়েদের জন্য এটা খুব দরকার। অফিসের কর্তাদের দায়িত্ব এটি। তারপরও সবার দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন এবং ইতিবাচক চিন্তা এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। চেষ্টা করুন অফিসে সেই রকম একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে। কর্মীরা মানসিকভাবে ভারমুক্ত থাকতে পারলে অফিস ভালো চলবে এটা সবাইকেই বুঝতে হবে।[২]
কর্মজীবী নারীদের সময় ব্যবস্থাপনার ৭টি সহজ কৌশল
৪. সঙ্গে খাবার রাখুন: দীর্ঘসময় খালি পেটে থাকবেন না। সঙ্গে করে খাবার নিয়ে যাবেন। সাদা রুটি, বিস্কুট, সবজি, ফল জাতীয় খাবারই এ ক্ষেত্রে ভালো। এতে শরীর ভারী হবে না।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: কর্মজীবী নারীরা অনেক সময় কাজের চাপে পানি খেতে ভুলে যান। পর্যাপ্ত পানি না পান করলে পানিশূন্যতা হতে পারে। প্রস্রাবে ইনফেকশনের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পানির আয়োজন রাখবেন। প্রয়োজনে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন।
৬. নিয়মিত বিনোদন: সপ্তাহান্তে ছুটির দিনটি কাজে লাগান। মনের পরিচর্যা করুন। পরিবার নিয়ে ঘুরতে যান নতুন কোনো জায়গায়। সিনেমা দেখুন। মঞ্চ নাটক, গানের অনুষ্ঠানে যান। প্রিয় কারো আড্ডার জায়গায় যেতে পারেন। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করুন। নতুন করে কাজের শক্তি পাবেন। বড় ছুটি পেলে ভ্রমণে বেড়িয়ে পড়ুন। আজকাল প্যাকেজ ট্যুরের সুবিধা আছে।
৭. শখের চর্চা করুন: কাজটাকেই জীবনের সব কিছু বলে ধরে নেবেন না। শখের চর্চা করুন। কেউ কেউ হয়ত ছাত্রজীবনে গান করতেন। চর্চাটা আবার শুরু করতে পারেন। গীটার বাজানো, পেইন্টিং, ফটোগ্রাফি, বাগান করা, লেখালেখির চর্চা- যার যেখানে শখ এবং দক্ষতা রয়েছে সেটি করতে পারেন। এই শখের চর্চাটাই আপনাকে বিষণ্ণতা ও ক্লান্তি থেকে দূরে রাখতে পারে।
৮. নিয়মিত ডাক্তার দেখান: কর্মজীবী নারীরা ছোটখাটো শারীরিক সমস্যাকে উপেক্ষা করেন। ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে ডাক্তার বাড়িতে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন। এই ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যাই পরে বড় আকার নিতে পারে। তাই অবহেলা নয়। নিয়মিত ডাক্তার দেখান ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন। বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের স্ক্রিনিং টেস্ট করুন। খুব বেশি ক্লান্তি, হতাশা, কাজের প্রতি অসন্তুষ্টি মনে হলে মনোবিদের পরামর্শ নেবেন।
৯. সহকর্মীদের সঙ্গে সদ্ভাব রাখুন: সহকর্মীদের সঙ্গে পরচর্চা,পরনিন্দায় অংশ নেবেন না। সম্ভব হলে নিরুৎহিত করবেন। খুব বেশি হতাশার চর্চা করবেন না। নিজের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা একান্ত বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করুন নয়তো মনোবিদের সঙ্গে বসুন। নেতিবাচকতার চর্চা করবেন না।
১০. সুষম খাবারে জোর দিন: অতিরিক্ত ক্যালরি পরিহার করুন। আবার কম খাবেন এমনও নয়। খাবারে বৈচিত্র্য আনুন। ফল ও সবজি যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস আপনাকে অনেকটাই ভালো রাখবে।
১১. ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তুলুন: চাকরিজীবী মায়েদের জন্য এটা খুব দরকার। অফিসের কর্তাদের দায়িত্ব এটি। তারপরও সবার দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন এবং ইতিবাচক চিন্তা এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। চেষ্টা করুন অফিসে সেই রকম একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে। কর্মীরা মানসিকভাবে ভারমুক্ত থাকতে পারলে অফিস ভালো চলবে এটা সবাইকেই বুঝতে হবে।[২]
কর্মজীবী নারীদের সময় ব্যবস্থাপনার ৭টি সহজ কৌশল
নারী যেমন শক্তিশালী ঠিক তেমনি নারী প্রাকৃতিকভাবে সংসারী এবং নরম মনের অধিকারী। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে, দিনের যেমন আমরা ২৪ ঘন্টা সময় পাই ঠিক তেমনই আমাদের দুটি হাত। আমরা যদি সময় এবং কাজের মাঝে সঠিক ব্যবস্থাপনা না করতে পারি তাহলে সামগ্রিক সকল কিছু নিয়ে পিছিয়ে পড়তে হবে। একটু সতর্ক থাকলেই ঘরে এবং বাইরে সময়ের সঠিক সঠিক ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব। সময় ব্যবস্থাপনার অপরদিকে প্রতিশব্দ হচ্ছে নিজস্ব ব্যবস্থাপনা।সময় ব্যবস্থাপনাকে শক্তি হিসাবে কাজে লাগানো সম্ভব।
সময় যখন আসবে ঘর সামলানোর এবং একই সাথে কর্মস্থান সামলানো ঠিক তখন আপনাকে জানতে হবে কিভাবে কাজ এবং দায়িত্বের মাঝে ভারসাম্য আনতে হবে। ঘর এবং বাইরে দুই অবস্থানকেই সামলানো একজন কর্মজীবী নারীর জন্য কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।কর্ম অবস্থান এবং সংসার সামলানোর একটিমাত্র সহজ উপায় হচ্ছে সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গুরুত্বটাকে ভাগ করা। কোন সময়টাতে কাজ করবেন আর কখন কিভাবে করবেন এই দুটি বিষয়ে যখন সমতা আনতে পারবেন ঠিক তখনই ঘরে এবং বাইরে দুটি ক্ষেত্রেই সাফল্যের সাথে আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন।
নারীরা যেকোনো পরিস্থিতির সাথে যে কোন সময় তাল মিলিয়ে তার মাঝে একটি সমতা আনার অভ্যাসটি জন্ম লগ্ন থেকেই অর্জন করে থাকি। আর তাই কর্মস্থান এবং ঘরের দায়িত্ব সুনিপুণভাবে পালন করা সম্ভব এরকম অসংখ্য সফল নারী রয়েছে। ঘরে এবং বাইরে শুধুমাত্র সময় ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সফলতার চূড়ান্ত শিখরে অবস্থান করছেন ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে এরকম অসংখ্য নারীর। আর তাই ঘর এবং বাইরে একই সাথে সামলিয়ে সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয় এই ধারণাটি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। জেনে নিতে পারেন কর্মজীবী নারীরা কিভাবে সহজ উপায়ে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারেন।
১. বিশদ পরিকল্পনা করা: কর্মজীবন শুরু হওয়ার পর থেকে চেষ্টা করুন খুব ভোরে দিনটি শুরু করার জন্য। প্রতিদিন সকাল বেলায় যখন আপনি জলদি ঘুম থেকে উঠবেন তখন নিজের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন সারাটা দিন কি করবেন তার পরিকল্পনা করার জন্য। মনে রাখবেন ঘরের ভেতর অফিসের কাজের ব্যস্ততা কখনই রাখবেন না। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে আধঘন্টা হেঁটে এসে নাস্তা বানিয়ে পরিবারের সাথে সকালের খাবার খান। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠার উদ্দেশ্যেই হবে আপনার সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোন কাজগুলোকে গুরুত্ব দিবেন তার একটি বিশদ পরিকল্পনা করা।
প্রতিদিন সকালে যখন ঘুম থেকে উঠবেন তখন আপনার হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকবে ঘরের কাজ সেরে অফিসে কখন কী করবেন তা গুছিয়ে নেবার জন্য। ব্যাপারটি অত্যন্ত চমৎকার যখন আপনি খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবেন এবং হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকবে। ঘরে কাজগুলোকে গুছিয়ে অফিসে গিয়ে কী কী করবেন তা ভাবা। কর্মজীবনে প্রবেশ করার পর থেকে চেষ্টা করুন ভোরে ঘুম থেকে ওঠে হাতে সময় নিয়ে সকাল শুরু করবার জন্য।
২. সকালেই কাজ এগিয়ে রাখুন: সকালে জলদি ঘুম থেকে উঠে রান্নাবান্নার কাজগুলো এগিয়ে রাখুন। এতে বিকেলে অফিসে এসে রান্নার জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হবে ন। এছাড়া সকালে খুব সহজ সাধারণ কিন্তু পুষ্টিকর খাবার রান্না করুন, এতে আপনার অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা যাতে অপুষ্টিতে না ভুগে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া চার চাকার যানবহন অফিস থেকে ফেরার পথে ব্যবহার না করে দুই চাকার যানবাহন ব্যবহার করুন।
যাতে করে অল্প সময়ে যানজট পেরিয়ে জলদি বাসায় ফিরতে পারেন। আপনার কাজে সহায়তার জন্য একজন সাহায্যকারী রাখতে পারেন যে কিনা আপনার অনুপস্থিতিতে বাড়ির ছোটখাটো কাজ গুলো করে রাখতে পারে এছাড়া জলদি বাসায় ফিরে পরিবারের সদস্যদের সাথে যতটা সম্ভব ভালো সময় ব্যয় করুন। আপনার কর্মজীবনের ব্যস্ততা পরিবারের সদস্যদের কোনো হীনমন্যতার সুযোগ করে না দেয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৩.তালিকা করে রাখুন: ঘরে অন্যান্য অতিরিক্ত কাজগুলো যেমন কেনাকাটা বা সপ্তাহের বাজার বা অন্য যে কোনো জরুরি কাজ সে গুলোকে কোথাও তালিকা করে রাখুন। আর কেনাকাটা বা সপ্তাহের বাজারের জন্য ছুটির দিন গুলোকে কাজে লাগান। এছাড়া জরুরী কাজের তালিকা করে রাখার অভ্যাসটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যাতে বাদ না পড়ে যায় তার একটি অনুস্মারক হিসেবে কাজ করবে। তালিকা তৈরির এই কাজটি করতে পারেন ডায়রিতে বা আপনার মোবাইল ফোনের নোটপ্যাডে কিংবা ল্যাপটপ।
সময় যখন আসবে ঘর সামলানোর এবং একই সাথে কর্মস্থান সামলানো ঠিক তখন আপনাকে জানতে হবে কিভাবে কাজ এবং দায়িত্বের মাঝে ভারসাম্য আনতে হবে। ঘর এবং বাইরে দুই অবস্থানকেই সামলানো একজন কর্মজীবী নারীর জন্য কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।কর্ম অবস্থান এবং সংসার সামলানোর একটিমাত্র সহজ উপায় হচ্ছে সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গুরুত্বটাকে ভাগ করা। কোন সময়টাতে কাজ করবেন আর কখন কিভাবে করবেন এই দুটি বিষয়ে যখন সমতা আনতে পারবেন ঠিক তখনই ঘরে এবং বাইরে দুটি ক্ষেত্রেই সাফল্যের সাথে আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন।
নারীরা যেকোনো পরিস্থিতির সাথে যে কোন সময় তাল মিলিয়ে তার মাঝে একটি সমতা আনার অভ্যাসটি জন্ম লগ্ন থেকেই অর্জন করে থাকি। আর তাই কর্মস্থান এবং ঘরের দায়িত্ব সুনিপুণভাবে পালন করা সম্ভব এরকম অসংখ্য সফল নারী রয়েছে। ঘরে এবং বাইরে শুধুমাত্র সময় ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সফলতার চূড়ান্ত শিখরে অবস্থান করছেন ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে এরকম অসংখ্য নারীর। আর তাই ঘর এবং বাইরে একই সাথে সামলিয়ে সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয় এই ধারণাটি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। জেনে নিতে পারেন কর্মজীবী নারীরা কিভাবে সহজ উপায়ে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারেন।
১. বিশদ পরিকল্পনা করা: কর্মজীবন শুরু হওয়ার পর থেকে চেষ্টা করুন খুব ভোরে দিনটি শুরু করার জন্য। প্রতিদিন সকাল বেলায় যখন আপনি জলদি ঘুম থেকে উঠবেন তখন নিজের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন সারাটা দিন কি করবেন তার পরিকল্পনা করার জন্য। মনে রাখবেন ঘরের ভেতর অফিসের কাজের ব্যস্ততা কখনই রাখবেন না। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে আধঘন্টা হেঁটে এসে নাস্তা বানিয়ে পরিবারের সাথে সকালের খাবার খান। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠার উদ্দেশ্যেই হবে আপনার সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোন কাজগুলোকে গুরুত্ব দিবেন তার একটি বিশদ পরিকল্পনা করা।
প্রতিদিন সকালে যখন ঘুম থেকে উঠবেন তখন আপনার হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকবে ঘরের কাজ সেরে অফিসে কখন কী করবেন তা গুছিয়ে নেবার জন্য। ব্যাপারটি অত্যন্ত চমৎকার যখন আপনি খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবেন এবং হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকবে। ঘরে কাজগুলোকে গুছিয়ে অফিসে গিয়ে কী কী করবেন তা ভাবা। কর্মজীবনে প্রবেশ করার পর থেকে চেষ্টা করুন ভোরে ঘুম থেকে ওঠে হাতে সময় নিয়ে সকাল শুরু করবার জন্য।
২. সকালেই কাজ এগিয়ে রাখুন: সকালে জলদি ঘুম থেকে উঠে রান্নাবান্নার কাজগুলো এগিয়ে রাখুন। এতে বিকেলে অফিসে এসে রান্নার জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হবে ন। এছাড়া সকালে খুব সহজ সাধারণ কিন্তু পুষ্টিকর খাবার রান্না করুন, এতে আপনার অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা যাতে অপুষ্টিতে না ভুগে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া চার চাকার যানবহন অফিস থেকে ফেরার পথে ব্যবহার না করে দুই চাকার যানবাহন ব্যবহার করুন।
যাতে করে অল্প সময়ে যানজট পেরিয়ে জলদি বাসায় ফিরতে পারেন। আপনার কাজে সহায়তার জন্য একজন সাহায্যকারী রাখতে পারেন যে কিনা আপনার অনুপস্থিতিতে বাড়ির ছোটখাটো কাজ গুলো করে রাখতে পারে এছাড়া জলদি বাসায় ফিরে পরিবারের সদস্যদের সাথে যতটা সম্ভব ভালো সময় ব্যয় করুন। আপনার কর্মজীবনের ব্যস্ততা পরিবারের সদস্যদের কোনো হীনমন্যতার সুযোগ করে না দেয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৩.তালিকা করে রাখুন: ঘরে অন্যান্য অতিরিক্ত কাজগুলো যেমন কেনাকাটা বা সপ্তাহের বাজার বা অন্য যে কোনো জরুরি কাজ সে গুলোকে কোথাও তালিকা করে রাখুন। আর কেনাকাটা বা সপ্তাহের বাজারের জন্য ছুটির দিন গুলোকে কাজে লাগান। এছাড়া জরুরী কাজের তালিকা করে রাখার অভ্যাসটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যাতে বাদ না পড়ে যায় তার একটি অনুস্মারক হিসেবে কাজ করবে। তালিকা তৈরির এই কাজটি করতে পারেন ডায়রিতে বা আপনার মোবাইল ফোনের নোটপ্যাডে কিংবা ল্যাপটপ।
মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের অনুস্মারকগুলো আপনাকে অতিরিক্ত সহায়তা দেবে। যেমন অনেক কাজের মাঝে যে কাজগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো কে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আপনার মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের অনুস্মারক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। আর এতে একটি কর্মব্যস্ত জীবন এরপরও আপনি আপনার দায়িত্বের কোন কাজকে বাদ দিবেন তা হবে না। এছাড়া মোবাইল বা ল্যাপটপের অনুস্মারক আপনাকে কোন কাজটি কোন সময় করবেন তা মনে করিয়ে দিবে আর এভাবে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা আপনার জীবনকে করবে আরো সহজ।
৪. স্বামী যখন সাহায্যকারী: আপনার জীবনসঙ্গীর সাথে এমনভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলুন যাতে করে আপনার কাজের সহায়তাকারী হিসেবে সে সবসময় আপনাকে সঙ্গ দেয়। কারণ যখন আপনার স্বামী আপনার ঘরের কাজে আপনাকে সহায়তা করবে তার এই সহায়তাকারী মনোভাবটি আপনার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়াবে। দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নিন কোন কাজগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিবেন। বিশেষ করে বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসা এবং বাচ্চার পড়াশোনার ব্যাপারে খোঁজখবর রাখা দায়িত্বটি আপনার স্বামীকে বুঝিয়ে দিন।
দুজনের মধ্যে সমঝোতা এমনভাবে গড়ে তুলুন যাতে করে দুজন দুজনের অনুপ্রেরণা হিসেবে পাশে পান। আপনার বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসার কাজটি যদি আপনার স্বামী করে সে সময়ে আপনি ঘরের বা বাইরের কোন প্রয়োজনীয় কাজ করে আপনার সংসারের জন্য সময়কে বাঁচাতে পারবেন। আরও অধিক সময় পরিবারের সাথে কাটাতে পারবেন যদি দুজনে মিলে সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজগুলোকে ভাগ করে নেন।
৫.একজন দায়িত্ব সম্পন্ন পেশাদারী ব্যক্তিত্ব: একজন কর্মজীবী মহিলা হিসেবে আপনাকে অবশ্যই দায়িত্বের সাথে আপনার পেশাদারিত্ব পালন করতে হবে। মনে রাখবেন যখন আপনি যখন বাড়িতে থাকবেন তখন অফিসের কাজগুলোক পরিবারের সদস্যদের সামনে এমনভাবে নিয়ে আসবেন না যাতে করে তাদের কাছে মনে হয় আপনি আপনার কাজকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আবার যখন অফিসে থাকবেন তখন সেখানে নিজস্ব দায়িত্বগুলো এমন ভাবে পালন করবেন যেন কেউ বলতে না পারে আপনি সংসার এবং কর্মব্যস্ততা কে গুলিয়ে ফেলছে।
অফিসের কাজে যখনই কোন কোন অবসর সময় পাবেন তখনই পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিন। তাদের কিছু লাগবে কিনা বা সংসারে কোন প্রয়োজনীয় জিনিস লাগবে কিনা সেগুলোও জেনে নিন। একজন কর্মজীবী মহিলাকে অবশ্যই অত্যন্ত দায়িত্বের সাথে পেশাদারিত্ব পালন করতে হবে। একই সাথে সময়কে এমন ভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে করে কোন অবসর বা কোন ব্যস্ততা আপনার কর্মস্থান এবং আপনার সংসার কে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।
৬. সু-সম্পর্ক রাখা: অফিসে এরকম অনেক কাজই থাকে যেগুলোকে বাসায় বাসায় এসে করতে হয়। মনে রাখবেন যে কাজগুলো আপনি বাসা থেকে করছেন সেগুলোর কোন ডেডলাইন যেন মিস না হয়ে যায়। সময়মতো সে কাজগুলো করে ফেলুন। কোন ইমেইল আসার থাকলে সঠিক সময়ে ইমেইল গুলো চেক করুন। এছাড়া অফিসে যদি অতিরিক্ত সময় থাকতে হয় তাহলে আপনার স্বামী এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের বলবেন যেন আপনার জন্য তারা অতিরিক্ত কাজগুলো করে রাখে। মনে রাখবেন ঘরে এবং বাইরে সুনিপুণভাবে দায়িত্ব পালন করতে হলে অবশ্যই পরিবারের সদস্যদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। এছাড়া অফিসে যদি বাইরে যাওয়ার পরকিল্পনা হয় তাহলে অবশ্যই উপস্থিত থাকবে।
এছাড়া স্বামী এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে এভাবে সমঝোতা গড়ে তুলুন যাতে এমন হয় যে, আপনার কর্মব্যস্ত দিনগুলোকে তাচ্ছিল্যভরে না দেখে বরং সম্মানের সাথে গ্রহণ করে। এছাড়া যে অফিসে চাকরি করছেন সেখানে ম্যানেজার থেকে শুরু করে নিম্নপদস্থ প্রতিটি কর্মীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। অফিস থেকে কখনো কোথাও বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা হলে তাদের সাথে অবশ্যই যোগদান করুন এতে অফিসের সকল কর্মীদের সাথে আপনার একটি সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। কখনো কোনো বিপদ আপদে যদি অফিস করতে না পারেন তাহলে যেন আপনার সহকর্মীরা আপনার সহায়তাকারী হিসেবে পাশে থাকে সেরকম সম্পর্কই তাদের সাথে গড়ে তুলুন। এতে করে বড় কোন পারিবারিক অনুষ্ঠান বা পারিবারিক দায়িত্বে আপনার উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি সহজ হবে।
৭. নিজের জন্য সময় রাখুন: জীবনে যত ব্যস্ততাই থাকুক অবশ্যই কিছু সময় নিজের জন্য নির্ধারিত রাখুন। এই সময়গুলো শুধু আপনার স্বামী বা আপনার বাচ্চার জন্য নয় বরং নিজের জন্য রাখুন। এছাড়াও সামাজিক কাজকর্মের জন্য সময় রাখুন। বন্ধুদের সাথে বের হন, মুভি দেখুন কিংবা শপিং করুন। এছাড়াও নিজের যত্ন নিন। রূপচর্চার জন্য কিছু সময় বরাদ্দ রাখুন।
মনে রাখবেন যখন আপনাকে ভালো দেখাবে তখন আপনি নিজে থেকেই ভালো অনুভব করবেন। এছাড়া স্বামীর সাথে কিছু ভালো সময় কাটান, দুজনে মিলে ভালো কোথাও খেতে যান, বাচ্চাদের সাথে কোথাও ঘুরতে বের হন। পরিবারের সাথে কাটানো এই একান্ত সময় গুলো আপনাকে কর্ম জীবনে সফল হতে অনেক বেশি সহায়তা করবে।
কাজগুলো ভাগের মাধ্যমে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করে হয়ে উঠুন একজন সফল কর্মজীবী মা, একজন সফল কর্মজীবী স্ত্রী এবং একজন সফল কর্মজীবী ব্যক্তিত্ব। সময় ব্যবস্থাপনার এই ছোট ছোট বিষয়গুলো আপনাকে সময়ের সাথে ঘরে এবং বাইরে সাফল্যের সাথে কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগাবে।[৩]
[১] ডিএইচডি [২] ডা. গুলজার হোসের উজ্জ্বল, রেসিডেন্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় [৩] অনলাইন ডেস্ক
৪. স্বামী যখন সাহায্যকারী: আপনার জীবনসঙ্গীর সাথে এমনভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলুন যাতে করে আপনার কাজের সহায়তাকারী হিসেবে সে সবসময় আপনাকে সঙ্গ দেয়। কারণ যখন আপনার স্বামী আপনার ঘরের কাজে আপনাকে সহায়তা করবে তার এই সহায়তাকারী মনোভাবটি আপনার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়াবে। দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নিন কোন কাজগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিবেন। বিশেষ করে বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসা এবং বাচ্চার পড়াশোনার ব্যাপারে খোঁজখবর রাখা দায়িত্বটি আপনার স্বামীকে বুঝিয়ে দিন।
দুজনের মধ্যে সমঝোতা এমনভাবে গড়ে তুলুন যাতে করে দুজন দুজনের অনুপ্রেরণা হিসেবে পাশে পান। আপনার বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসার কাজটি যদি আপনার স্বামী করে সে সময়ে আপনি ঘরের বা বাইরের কোন প্রয়োজনীয় কাজ করে আপনার সংসারের জন্য সময়কে বাঁচাতে পারবেন। আরও অধিক সময় পরিবারের সাথে কাটাতে পারবেন যদি দুজনে মিলে সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজগুলোকে ভাগ করে নেন।
৫.একজন দায়িত্ব সম্পন্ন পেশাদারী ব্যক্তিত্ব: একজন কর্মজীবী মহিলা হিসেবে আপনাকে অবশ্যই দায়িত্বের সাথে আপনার পেশাদারিত্ব পালন করতে হবে। মনে রাখবেন যখন আপনি যখন বাড়িতে থাকবেন তখন অফিসের কাজগুলোক পরিবারের সদস্যদের সামনে এমনভাবে নিয়ে আসবেন না যাতে করে তাদের কাছে মনে হয় আপনি আপনার কাজকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আবার যখন অফিসে থাকবেন তখন সেখানে নিজস্ব দায়িত্বগুলো এমন ভাবে পালন করবেন যেন কেউ বলতে না পারে আপনি সংসার এবং কর্মব্যস্ততা কে গুলিয়ে ফেলছে।
অফিসের কাজে যখনই কোন কোন অবসর সময় পাবেন তখনই পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিন। তাদের কিছু লাগবে কিনা বা সংসারে কোন প্রয়োজনীয় জিনিস লাগবে কিনা সেগুলোও জেনে নিন। একজন কর্মজীবী মহিলাকে অবশ্যই অত্যন্ত দায়িত্বের সাথে পেশাদারিত্ব পালন করতে হবে। একই সাথে সময়কে এমন ভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে করে কোন অবসর বা কোন ব্যস্ততা আপনার কর্মস্থান এবং আপনার সংসার কে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।
৬. সু-সম্পর্ক রাখা: অফিসে এরকম অনেক কাজই থাকে যেগুলোকে বাসায় বাসায় এসে করতে হয়। মনে রাখবেন যে কাজগুলো আপনি বাসা থেকে করছেন সেগুলোর কোন ডেডলাইন যেন মিস না হয়ে যায়। সময়মতো সে কাজগুলো করে ফেলুন। কোন ইমেইল আসার থাকলে সঠিক সময়ে ইমেইল গুলো চেক করুন। এছাড়া অফিসে যদি অতিরিক্ত সময় থাকতে হয় তাহলে আপনার স্বামী এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের বলবেন যেন আপনার জন্য তারা অতিরিক্ত কাজগুলো করে রাখে। মনে রাখবেন ঘরে এবং বাইরে সুনিপুণভাবে দায়িত্ব পালন করতে হলে অবশ্যই পরিবারের সদস্যদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। এছাড়া অফিসে যদি বাইরে যাওয়ার পরকিল্পনা হয় তাহলে অবশ্যই উপস্থিত থাকবে।
এছাড়া স্বামী এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে এভাবে সমঝোতা গড়ে তুলুন যাতে এমন হয় যে, আপনার কর্মব্যস্ত দিনগুলোকে তাচ্ছিল্যভরে না দেখে বরং সম্মানের সাথে গ্রহণ করে। এছাড়া যে অফিসে চাকরি করছেন সেখানে ম্যানেজার থেকে শুরু করে নিম্নপদস্থ প্রতিটি কর্মীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। অফিস থেকে কখনো কোথাও বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা হলে তাদের সাথে অবশ্যই যোগদান করুন এতে অফিসের সকল কর্মীদের সাথে আপনার একটি সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। কখনো কোনো বিপদ আপদে যদি অফিস করতে না পারেন তাহলে যেন আপনার সহকর্মীরা আপনার সহায়তাকারী হিসেবে পাশে থাকে সেরকম সম্পর্কই তাদের সাথে গড়ে তুলুন। এতে করে বড় কোন পারিবারিক অনুষ্ঠান বা পারিবারিক দায়িত্বে আপনার উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি সহজ হবে।
৭. নিজের জন্য সময় রাখুন: জীবনে যত ব্যস্ততাই থাকুক অবশ্যই কিছু সময় নিজের জন্য নির্ধারিত রাখুন। এই সময়গুলো শুধু আপনার স্বামী বা আপনার বাচ্চার জন্য নয় বরং নিজের জন্য রাখুন। এছাড়াও সামাজিক কাজকর্মের জন্য সময় রাখুন। বন্ধুদের সাথে বের হন, মুভি দেখুন কিংবা শপিং করুন। এছাড়াও নিজের যত্ন নিন। রূপচর্চার জন্য কিছু সময় বরাদ্দ রাখুন।
মনে রাখবেন যখন আপনাকে ভালো দেখাবে তখন আপনি নিজে থেকেই ভালো অনুভব করবেন। এছাড়া স্বামীর সাথে কিছু ভালো সময় কাটান, দুজনে মিলে ভালো কোথাও খেতে যান, বাচ্চাদের সাথে কোথাও ঘুরতে বের হন। পরিবারের সাথে কাটানো এই একান্ত সময় গুলো আপনাকে কর্ম জীবনে সফল হতে অনেক বেশি সহায়তা করবে।
কাজগুলো ভাগের মাধ্যমে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করে হয়ে উঠুন একজন সফল কর্মজীবী মা, একজন সফল কর্মজীবী স্ত্রী এবং একজন সফল কর্মজীবী ব্যক্তিত্ব। সময় ব্যবস্থাপনার এই ছোট ছোট বিষয়গুলো আপনাকে সময়ের সাথে ঘরে এবং বাইরে সাফল্যের সাথে কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগাবে।[৩]
[১] ডিএইচডি [২] ডা. গুলজার হোসের উজ্জ্বল, রেসিডেন্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় [৩] অনলাইন ডেস্ক



No comments