Header Ads

Header ADS

ব্রণের সমস্যার সমাধান

ব্রণের সমস্যার সমাধান




মুখ ভরে গেছে ব্রণে। লাল লাল, দানাদার, কোনোটি বেশ উঁচু। আয়নার দিকে তাকালেই মন খারাপ হয়। কিশোর–তরুণ বয়সের একটা বড় দুশ্চিন্তা এই ব্রণ। এই বয়সে ব্রণ বেশি দেখা দেওয়ার বিষয়টি হরমোনজনিত। ছেলেদেরই এ সময় এটা বেশি হয়, কেননা পুরুষ হরমোন এন্ড্রোজেন এই ব্রণের জন্য দায়ী। কখনো কখনো মেয়েদের মধ্যে এন্ড্রোজেনের আধিক্য হলে ব্রণ বেশি হতে পারে। কিছু কিছু রোগে ব্রণের আক্রমণ বেড়ে যায়। যেমন মেয়েদের পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম, কুশিং সিনড্রোম, স্টেরয়েড–জাতীয় ওষুধের ব্যবহার, কিছু প্রসাধনসামগ্রী ব্যবহারের কারণে ব্রণ হতে পারে। কারও পরিবারে বেশি ব্রণ হওয়ার ইতিহাস থাকে।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কৈশোরে ব্রণ নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। এটা এমনিতেই সেরে যায়। তবে কখনো কখনো সমস্যা একটু বেশি প্রকট হয়ে ওঠে, বড় বড় দানা হয়, পুঁজ জমে ভেতরে, ব্যথা করে, সঙ্গে দেখা দেয় মানসিক অশান্তি। জেনে নিন এই ব্রণ সমস্যা নিয়ে কী করবেন।
১- প্রথম কথা হলো, ব্রণ নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করবেন না। এটা স্বাভাবিক ঘটনা। সময় হলে এমনিতেই সারবে। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ ব্রণ বাড়িয়ে দেয়, তাই চাপমুক্ত থাকুন।
২- মুখমণ্ডল পরিষ্কার রাখবেন। তার মানে এই নয় যে দিনে বারবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে হবে। বরং এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।


৩- নখ দিয়ে ব্রণ খুঁটবেন না, নিজে নিজে চেপে পুঁজ বা রস বের করার চেষ্টা করবেন না। পিন দিয়ে খোঁচাবেন না। এতে স্থায়ী দাগ পড়ে যেতে পারে। সংক্রমণের ভয়ও থাকে।
৪- গরম বাষ্প নেওয়া বা ভাপ নেওয়ার কোনো উপকার আছে বলে প্রমাণিত হয়নি।
৫- ভাজাপোড়া খেলে ব্রণ বাড়ে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার (যেমন মিষ্টি, চকলেট ইত্যাদি) ব্রণের প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়।
৬- সমস্যা তীব্র না হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ক্রিম ব্যবহার করা যায়। সমস্যা খুব বেশি তীব্র হলে মুখে খাওয়ার ওষুধ (কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, ভিটামিন ‘এ’) খেতে দেওয়া হয়। কিন্তু মনে রাখবেন, এসব ওষুধ বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া কখনোই খাওয়া ঠিক নয়।
৭- ব্রণ–পরবর্তী জটিলতা—যেমন ত্বকে গর্ত, স্থায়ী দাগ ইত্যাদি দূর করতে লেজার, ডার্মারোলা ইত্যাদি পদ্ধতির প্রয়োগ করা যেতে পারে।

ব্রণ দূর করার ছয়টি ঘরোয়া উপায়
১-এসপিরিন
নিউইয়র্কের ডার্মাটোলজিস্ট এবং স্কিন রুলস বইয়ের লেখক ডেবরা জেলিমান জানান, এসপিরিন হলো এক ধরনের সলিসিলিক এসিড। একনি বা ব্রণ দূর করার পণ্যগুলোতে এই উপাদান ব্যবহার করা হয়। এসপিরিন গুঁড়ো করে পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। তুলার মধ্যে লাগিয়ে এই পেস্ট সরাসরি ব্রণের মধ্যে ১০ মিনিট রাখুন। এর পর উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
২-চা-গাছের তেল
চা-গাছের তেলের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-সেপটিক ও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান। কয়েক ফোঁটা চা-গাছের তেল তুলার মধ্যে লাগিয়ে খুব নরমভাবে ব্রণ ও দাগে লাগান। দেখবেন কয়েক দিনের মধ্যে ব্রণ সেরে উঠেছে।
৩-বরফ
ড. জেলিমান জানান, গোড়ালি মচকে গেলে এর ফোলা কমাতে বরফ কাজ করে। এটি ব্রণের প্রদাহ কমাতেও বেশ কার্যকর। একটি বরফের ছোট টুকরো পরিষ্কার কাপড়ের মধ্যে নিয়ে এক মিনিটের জন্য ব্রণের মধ্যে রাখুন। এই পদ্ধতি ব্রণের লাল হওয়া ও ফোলাভাব কমাবে।
৪-লেবুর রস
৫-লেবুর রসের মধ্যে রয়েছে সাইট্রিক এসিড। রয়েছে এল-এসকোরোবিক এসিড, যা প্রাকৃতিক অ্যান্টি অক্সিডেন্টের উৎস। একটি তুলোর টুকরোর মধ্যে লেবুর রস মিশিয়ে ব্রণে লাগান। সারা রাত রাখুন। ব্রন দূর করতে এই পদ্ধতিও বেশ কার্যকর।
৬-রসুন
রসুনের গন্ধ হয়তো আপনার বিরক্ত লাগতে পারে। কিন্তু এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান; যা ব্রণ দূর করে। রসুন দেহের বিভিন্ন রোগ-প্রতিরোধেও উপকারী। এটি ক্যানসার প্রতিরোধ করে। রসুনে রয়েছে এলিসিন ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। রসুন কেটে পানির সঙ্গে পেস্ট করুন। এরপর ব্রণের মধ্যে পাঁচ মিনিট রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
৭-মধু
ব্রণ দূর করতে মধুও খুব উপকারী। মিষ্টি স্বাদের এই খাবারটি আপনি মাস্কের মতো মুখে লাগাতে পারেন। পাঁচ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এর ভেতর আছে অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি এবং অ্যান্টি সেপটিক উপাদান। তবে নিয়মিতি মধু ব্যবহারে ব্রণ একেবারেই সারবে কি না, সেটা নিয়ে গবেষকরা এখনো দ্বন্দ্বে রয়েছেন। তাঁদের পরামর্শ, চেষ্টা করুন অপ্রক্রিয়াজাত বা টাটকা মধু ব্যবহার করতে।

No comments

Powered by Blogger.